Dawaipani , Darjeeling

"Dawaipanir DuRattir"- By Deepanjan Halder

Wonderful travelogue . Its my pleasure to having you as my guest . Thanks a lot .

দাওয়াইপানির দুরাত্তির:



যদিও কাজের সুবাদে প্রতি মাসেই 4/5 বার পাহাড়ে যেতে হয়, তবুও ঠিক আরাম করে ঘোরার স্বাদ টা মেটে না। তাই জুলাইয়ের শুরুতে সৈকতের প্রস্তাব টা আসতেই জন্টি রোডস এর মত পয়েন্টে ঝাঁপিয়ে ক্যাচ টা লুফেই নিলাম, তবুও থার্ড আম্পায়ারের (কথার) সম্মতির জন্য সপ্তাহ খানেক ওয়েট করতে হল। গ্রিন সিগনাল মিলতেই কোথায় যাবো কোথায় যাবো প্ল্যানিং করতে লাগলাম। অফিস থেকে মাত্ৰ 1 দিন ছুটি নিয়ে কোথায় যাওয়া যায় চিন্তা করতে লাগলাম। অবশেষে, সৈকত ই দাওয়াইপানির কথাটা তুললো। আমিও ভাবলাম, দার্জিলিং থেকে মাত্র 15 কিলোমিটার দূরত্ব হওয়ায়, দার্জিলিং এ কাজ সেরে বিকেলে পৌঁছতেও কোনো অসুবিধা হবে না। যেমন ভাবা তেমনি কাজ। এর মধ্যেই শুভ (মামাতো ভাই) আমাদের সাথে যোগ দেবে বলায়, আমরা মোট 5 জন হলাম (গোগোল কে নিয়ে)। ঠিক হলো, 9 আগস্ট পৌঁছে 11 আগস্ট ফিরে আসবো। সেইমতো শুভ আর সৈকতের ট্রেনের বুকিং আর হোম স্টে বুকিং ও করে নেওয়া হলো। আর আমিও আমার আগস্ট এর ওয়ার্ক ট্যুর প্ল্যান এ 9 তারিখ দার্জিলিং কাজ রাখলাম, আর 10 তারিখ একটা লিভ এপ্রুভ করিয়ে নিলাম।

D Day:
9 তারিখ সৈকতদের ট্রেন (গুয়াহাটি গরিব রথ) 40 মিনিট লেট দেখে, আমি আমার কাজে দার্জিলিং রওনা দিলাম। 11:30 নাগাদ দার্জিলিং পৌঁছে বাড়িতে ফোন করে জানতে পারলাম, ওরা শিলিগুড়ি থেকে দাওয়াইপানির উদ্দেশ্য রওনা দিতে প্রস্তুত। বিকেল 3 টে তে কথার ফোন এলো যে ওরা হোম স্টে তে পৌঁছে গেছে। ব্যাস, আমার পেটের মধ্যে গুড়গুড় শুরু হয়ে গেল, কখন যাবো কখন যাবো? হয়তো আমার সৌভাগ্য যে, সৌভাগ্য ক্লিনিকে কল টাও 3:30 এ হয়ে গেল। আর আমাকে পায় কে।
দৌড়ে চক বাজারে কাছে আসতেই দেখি একটা সোনাদা যাওয়ার শেয়ার গাড়ি ছাড়ছে, ঝটপট উঠে পড়লাম। 20 টাকা ভাড়া দিয়ে জোরবাংলো নেমে পড়লাম। পেশক রোডের মুখেই দেখি একটা সাভারি গাড়ি দাঁড়িয়ে, তাকদা যাবে। আরামসে জানলার ধারে বসে আবার 25 টাকায় এলাম 6মাইল বাজারের ঠিক আগে। একটা চড়াই রাস্তা বাঁ দিকে উঠে গেছে, সেই নির্জন রাস্তা ধরে গুনগুন করে গান করতে করতে 25 মিনিটে পৌঁছে গেলাম আমাদের দু রাত্তিরের ঠিকানা রোভার্স স্টে।
তখন ঘড়িতে 5 টা বেজে গেছে, পেটের মধ্যে ডাইনোসর দৌড়োচ্ছে। আমার জন্য বাকিরাও দেখি লাঞ্চ না করে অপেক্ষা করছে, অতএব কথা না বাড়িয়ে সবাই মিলে ডাইনিং টেবিলে ঝাঁপিয়ে পড়লাম (সেই সত্যে পে সত্যা সিনেমার সাত ভাইয়ের মতো). পাঁচ মিনিটের মধ্যেই গরম ভাত, ডাল, আলুভাজা আর ডিমের ঝোল খাল্লাস।
এবার ভালো করে হোম স্টে টা দেখলাম। পাহাড়ের জঙ্গলের মধ্যে সবথেকে উঁচুতে এই প্রপার্টি টা তৈরি করা। দুটো মাত্র কটেজ, প্রতিটা কটেজে 4 জন করে থাকতে পারে। কটেজগুলোর সামনের দিকে পুরো দেওয়ালটাই কাঁচের, সুতরাং সারাদিন বিছানায় বসেই হিমালয়ের কর্মকাণ্ড দেখে কাটিয়ে দেওয়া যায়। দুটোতেই এটাচ টয়লেট আছে। এছাড়া একটা ডাইনিং কাম কিচেন আছে, এটাও চারিদিকে কাঁচ দিয়ে ঘেরা। এর সাথেই লাগানো একটা ঘরে থাকে এখানকার কেয়ারটেকার চেতন রাই ও তার স্ত্রী। হোম স্টের সামনে দাঁড়ালেই উল্টোদিকে মেঘের সাম্রাজ্য পেরিয়ে দাঁড়িয়ে আছে শৈলরানী দার্জিলিং, কোনাকুনি বাঁ দিকে টাইগার হিল কে সঙ্গী করে। দার্জিলিংয়ের ঘরগুলো ঝুলনের খেলনা বাড়ির মতো লাগছে। অগুনতি পাহাড়ের ঢেউ আর মেঘেদের আনাগোনা এক অদ্ভুত দৃশ্যপট তৈরী করেছে। 2'O clock পজিশনে তাকালে নামচি শহর দেখা যাচ্ছে, চারধামের মহাদেব আর সামদ্রূপসের গুরু পদ্মসম্ভাবার পাহাড়ায়। আর একদম ডানদিকে দেখা যাচ্ছে পেশক টি গার্ডেন এর কিছু অংশ। আকাশ পরিষ্কার থাকলে একদম মুখোমুখি দেখা যায় "স্লিপিং বুদ্ধ" বা সপার্ষদ কাঞ্চনজঙ্ঘা।
সৈকতরা আগে থেকেই চেতন কে সন্ধেবেলার জন্য দেশী মুরগির বার্বিকিউ এর কথা বলে রেখেছিল। চেতন বার্বিকিউ রেডি করতে লাগলো, আর আমরা কাঠের বেঞ্চে বসে প্রকৃতির রঙ্গমঞ্চে দৃশ্যপট বদলের সাক্ষী হতে লাগলাম। ধীরে ধীরে অন্ধকার নেমে এলো চরাচর জুড়ে, আর জোনাকির মতো দার্জিলিং আর নামচি শহরের আলোগুলো জ্বলে উঠতে লাগলো, আর জঙ্গল থেকে ঝিঁঝি পোকার ডাকে চারিদিক মুখরিত হয়ে রইল। সে এক অনির্বচনীয় মুহূর্ত, নিজে সাক্ষী না থাকলে ভাষায় প্রকাশ করার মতো ক্ষমতা বা ধৃষ্টতা কোনোটাই আমার নেই।
এরপর আমরা মনোনিবেশ করলাম চেতনের তৈরি দেশী কুক্কুটের বার্বিকিউতে, সঙ্গী হলো আমার আর সৈকতের ভীষণ প্রিয় উইলিয়াম লসন 😜। লসন সাহেবের কথায় মনে পড়লো আর এক সাহেবের কথা, যেটা চেতনের কাছেই শোনা।
ব্রিটিশ রা যখন ভারতে তাদের কলোনিয়াল সাম্রাজ্য স্থাপন করে, তখন রাজধানী ছিল কলকাতা। কিন্তু ঠান্ডার দেশের মানুষের কাছে কলকাতার গ্রীষ্ম ছিল এক বিভীষিকা। তাই তারা উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন স্থান এক্সপ্লোর করা শুরু করে এই প্রচন্ড গরমের হাত থেকে বাঁচতে। এভাবেই দার্জিলিং হয়ে ওঠে ওদের নয়নের মণি। ধীরে ধীরে দার্জিলিংয়ে তারা বসতি তৈরি করতে শুরু করে, তৈরি হয় হিলকার্ট রোড। সূচনা হয় দার্জিলিং হিমালায়ান রেলওয়ের (DHR), যা এখন ইউনেস্কোর ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট তকমাপ্রাপ্ত। যাই হোক, ব্রিটিশদের প্রিয় জায়গা হওয়ায় দার্জিলিং কে কেন্দ্র করে অনেক কর্মসংস্থান তৈরি হয়, মূলত চা বাগান গুলোকে কেন্দ্র করে। সেইরকমই কোনো এক কাজে এই এলাকায় এক ব্রিটিশ সাহেবের আগমন হয়। কিন্তু তার পায়ে একটা ঘা থাকায়, সে বুট পড়তে পারতো না। এখন যেখানে দাওয়াইপানি, তখন সেই জায়গার নাম ছিল মিনারেল স্প্রিং বস্তি (একটা প্রস্রবণ ছিল, যার জলে প্রচুর খনিজ পদার্থ ছিল)। কাজের জন্য সেই সাহেবকে ওই প্রস্রবণ পেরিয়েই রোজ যাতায়াত করতে হতো। কিছু মাস পরে দেখা যায় যে তার পায়ের ঘা সম্পূর্ণ নিরাময় হয়ে গেছে, সেই প্রস্রবণ এর জলের ধারার সংস্পর্শে এসে। সেই থেকে স্থানীয়রা ওই প্রস্রবণ এর নাম দেন দাওয়াইপানি (দাওয়াই= ওষুধ, পানি=জল)।

এই গল্প শুনতে শুনতে, আর আমাদের দাওয়াইপানি আর মুরগি শেষ হতে প্রায় রাত 8 টা বেজে গেল। ঠান্ডা টাও বেশ জাঁকিয়ে পড়েছে ততক্ষনে। আমরা ঘরের ভেতরে গিয়ে আড্ডা মারতে লাগলাম। রাত 9:30 নাগাদ ডিনারের ডাক পড়লো। গরম গরম রুটি, স্কোয়াসের তরকারি আর মুরগীর ঝোল দিয়ে ডিনার সেরে যে যার ঘরে গিয়ে, কম্বলের তলায় সেঁধিয়ে গেলাম। ঘুমের মধ্যে যেন সেই প্রস্রবণ এর কুলুকুলু ধারার আওয়াজ শুনতে পেলাম। বাইরে কুয়াশা ঘেরা জঙ্গলে ভেসে বেড়াতে লাগলো ঝিঁঝিঁ পোকার অবিরাম কনসার্ট।


 ভোর 5 টা নাগাদ ঘুম টা ভেঙে গেল। পাহাড়ে বোধহয় পিনিয়াল গ্ল্যান্ড টা একটু বেশিই সক্রিয় থাকে, কোনো এলার্ম ছাড়াই খুব ভোরে ঘুম ভেঙে যায়। জানলার পর্দাটা একটু ফাঁক করে দেখলাম আকাশ একেবারে নীল, আর একদম সোজাসুজি তিনি মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছেন। তাড়াতাড়ি সবাইকে ডেকে তুললাম। সবাই চোখ কচলাতে কচলাতে বারান্দায় এসে সেই যে হাঁ করলো কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখে, পাক্কা দেড় মিনিট লাগলো মুখ বন্ধ হতে। আর শুধু কাঞ্চনজঙ্ঘা ই নয়, কোকতাং-কুম্ভকর্ণ থেকে শুরু করে কাবরু-পান্ডিম-নারসিং-সিম্ভো-সিনিওলচু অবধি পুরো শায়িত বুদ্ধ রেঞ্জ দেখা যাচ্ছে। সত্যিই আমরা ভাগ্য করে এসেছি বটে। আগস্ট মাসে এই দৃশ্য দেখে গীতা দত্তের একটা গানের দুটো কলি খুব মনে পড়ে গেলো,
"এ জীবনে যতটুকু চেয়েছি,
মন বলে তার বেশি পেয়েছি"।
সাতসকালে (সরি, সাড়ে-পাঁচসকালে) সবার দিল গার্ডেন গার্ডেন হয়ে গেল। আমি আর সৈকত বেরোলাম পাখিদের খোঁজে জঙ্গলের রাস্তা ধরে। বেশ কিছু বি-ইটার, verditar flycatcher, স্কারলেট মিনিভেট, ম্যাগপাই রবিন ইত্যাদি চোখে ও ক্যামেরায় ধরা দিল। পাহাড়ি পথে হাঁটতে হাঁটতে বেশ খিদেও পেয়ে গেছিলো, তাই আবার হোম স্টে তে ফিরে এলাম। এসে গরম গরম দার্জিলিং চা আর বিস্কুট খেলাম।
আজ 10 টায় আবার বিধান দাজু আসবে , তার সুমো নিয়ে আমাদের লোকাল সাইট সিইং করাতে। তাই সবাই স্নান করে সাড়ে নটার মধ্যে রেডি হয়ে ডাইনিং রুমে গিয়ে পুরি-সবজি-অমলেট পেটভরে খেয়ে নিলাম। সাইট সিইং এ বেরিয়ে প্রথমেই গেলাম 6মাইল হয়ে তাকদা অর্কিড গার্ডেন। মেঘে ঢাকা ওয়েদারে বেশ ভালো লাগছিলো। এখন অর্কিডের সিজন নয় (অর্কিডের সিজন নভেম্বর-এপ্রিল) বলে সেরকম কিছু পেলাম না, কিন্তু অনেক ধরণের ক্যাকটাস দেখলাম। এরপর গাড়ি এগিয়ে চললো তাকদা বাজার পেরিয়ে তিনচুলের দিকে। তিনচুলে তে একটা মোনাস্ট্রি ঘুরে পৌঁছলাম গুমবাদারা ভিউ পয়েন্ট। এই জায়গাটা এক কথায় মাইন্ড ব্লোয়িং। সামনে সারি সারি পাহাড় মাথায় মেঘের ভেলা নিয়ে দাঁড়িয়ে (কাঞ্চনজঙ্ঘা ততক্ষনে মেঘের ঘোমটায়ে লুকিয়ে পড়েছে), আর নীচে যতদূর চোখ যায় চা বাগানের বিস্তৃতি। আর নিচ দিয়ে বয়ে চলেছে রঙ্গীত নদী তার প্রিয়তমা তিস্তার সাথে মিলিত হওয়ার জন্য। ওখানে একমাত্ৰ চায়ের দোকানে আমরা সবাই চা খেলাম। কথা আবার একটা পলিথিন ভর্তি করে চা পাতা তুলে আনলো বাগান থেকে। শুনলাম এই চা বাগানে (পেশক টি এস্টেট) অনেক হিন্দি সিনেমার শুটিং হয়েছে, যার মধ্যে অন্যতম ধর্মেন্দ্র-আশা পারেখের অভিনীত "আয়ে দিন বাহার কে"।
গুমবাদারা কে বিদায় জানিয়ে আমরা ওই চা বাগানের মধ্যে দিয়ে এসে পড়লাম লোপচু তে (লোপচুর চা ও পৃথিবী বিখ্যাত)। সেখান থেকে পাকদন্ডী পথ ধরে আমাদের পরবর্তী গন্তব্য লাভার্স মিট ভিউ পয়েন্ট। এখান থেকে তিস্তা আর রঙ্গীতের মিলন দুর্দান্ত দেখায়। এখন বর্ষাকাল বলে দুটো নদীর জলই ঘোলা, কিন্তু শীতকালে তিস্তার পান্না সবুজ জলের সাথে রঙ্গীতের সাদা জলের মিলন খুব সুন্দর লাগে। এখানে আমরা একটু স্ন্যাকস ও পানীয় নিয়ে রিচার্জ হলাম। বিধান দাজু এরপর আমাদের ফিরতি পথে নিয়ে এলো লামহাট্টা। এখানে একটা খুব সুন্দর পার্ক আছে। পুরো পার্ক জুড়ে পাইন গাছের সমাহার। আর এই পার্কের একদম ওপরে আছে একটা অর্ধ চন্দ্রাকৃতি লেক। আমি আর গোগোল চললাম সরু পাথুরে বাঁধানো পথ ধরে লেক দেখতে। লেক অবধি যেতে অনেকটা ওপরে উঠতে হয়। মোটামুটি 30 মিনিট লাগে পাহাড়ের একদম মাথায় পৌঁছতে। স্থানীয়রা এই লেকটিকে পবিত্র মনে করে, তাই লেক এর ধারে কোনো আবর্জনা দেখলাম না।
লামহাট্টা দেখে আমরা এবার হোম স্টে তে ফিরে এলাম। ততক্ষণে ঘড়িতে 4 টে বাজে। এসেই গরম গরম ভাত, ডাল, ডিমের ঝোল দিয়ে লাঞ্চ সেরে নিলাম। আজকেও চেতন কে বার্বিকিউ এর কথা বলা ছিল। সন্ধ্যে হতেই আবার লসন সাহেব কে নিয়ে আড্ডা দিতে বসলাম কটেজের বারান্দায়। আটটা নাগাদ হঠাৎ খুব জোরে বৃষ্টি শুরু হলো। টিনের চালে বৃষ্টির ঝমঝম আওয়াজ আর আড্ডা, দারুন জমে উঠলো। হুঁশ ফিরলো চেতনের ডাকে "ডিনার রেডি হ্যায় ভাইয়া"। ততক্ষণে বৃষ্টিটাও ধরে এসেছে। অগত্যা আবার ডাইনিংয়ে গিয়ে অল্প করে রুটি-চিকেন কারি খেয়ে ফিরে এলাম। বৃষ্টি হওয়ায় বেশ ঠান্ডা লাগছিলো। সারাদিন ঘুরে সবাই ক্লান্তও ছিল। আর কথা না বাড়িয়ে, যে যার ঘরে ঢুকে শুয়ে পড়লাম। ঘুমের মধ্যে দেখলাম, কাঞ্চনজঙ্ঘার দুই দিকে ধর্মেন্দ্র আর আশা পারেখ দাঁড়িয়ে লুকোচুরি খেলছে। বুঝলাম আমার অবস্থা বেশ শোচনীয়। আর বলতে পারছি না, গুড নাইট।


Picture : Mr. Deepanjan Halder 


Mr. Deepanjan Halder
Mr. Deepanjan Halder

Short Description by Mr. Shiladitya Mitra

By Mr. Shiladitya Mitra

 

The final part of the journey to Dawaipani was indeed scary, as one had to go up hill via an extremely steep road. However, the driver was extremely efficient and we had absolutely no problem. On reaching Rovers Homestay in Dawaipani (phone number of the owner 9007138504), we were simply awestruck, as we had never stayed in such a place ever before in our life. We will be all alone in the middle of nature (with another family) for a day.

In spite of its interior location, the mobile network was extremely good here and also the food served was finger licking good. Also, I have to mention the cooperation that we got from the owner who is incidentally a Bengali, whom I have never seen but he has been extremely helpful right from the start. I have made innumerable calls to him from the day of the booking to the time I left the resort and he fulfilled all our wishes. (There are only 2 rooms in this home stay - one front view and one side view room and the rate of both the rooms are Rs. 1200 per person per day including staying and all meals).

After having lunch (egg meal), we went for a short walk. The weather was quite chilling here and we enjoyed every moment of this cold weather. As the temperature dipped further in the evening, on my request they made momo - Though they took a bit of time to prepare it, it was simply delicious. The dinner was also quite tasty (Ruti and chicken).

Though the place is much remote compared to Tinchuley, surprisingly the mobile network of both Vodafone and Airtel are very good here compared to what we got at Rai Resort. The room was quite clean and the bathroom was also okay, but a little maintenance is required of the bathroom.

The only regret is that, in this homestay, we forgot to arrange a bonfire along with chicken tanduri which they do quite often, as I saw the picture later on. During the evening, while making planning for the things that we we will be doing in Darjeeling, I booked the toy train tickets via IRCTC website, which was really helpful as the next day when we reached Darjeeling station, there was no ticket available. It is always advisable to book the tickets for the toy train from beforehand.

Like Tinchuley, there was presence of Messi here as well :) - There was a young guy in the family, who are the caretaker of Rovers Home Stay, who is a blind Lionel Messi fan (I came to know about this by seeing a huge Messi poster in one of the walls in their small room). Also the other family members shared that he is a good footballer as well and goes for training daily in a nearby camp.


Picture ; Mr. Shiladitya Mitra

image1